Recents in Beach

মেঘ -বৃষ্টি সহায়িকা অষ্টম শ্রেণী প্রশ্নোত্তর

মেঘ-বৃষ্টি 


অধ্যায়ভিত্তিক সংজ্ঞা:

1. মেঘ: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বগামী হয়ে শীতল ও ঘনীভূত হলে ছােটো ছােটো জলকণায় পরিণত হয় ও ধূলিকণা, লবণকণা ও নানাধরনের কঠিন কণাকে আশ্রয় করে ভাসতে থাকে। এইভাবে মেঘ সৃষ্টি হয়।

2. বাষ্পীভবন : জলের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।

3. সম্পৃক্ত বায়ু : কোনাে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ু যতটা জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, সেই পরিমাণ জলীয় বাষ্প যদি ওই বায়ুতে উপস্থিত থাকে, তবে সেই বায়ুকে সম্পৃক্ত বায়ু বলে।

4. শিশিরাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় বায়ু ওর মধ্যে উপস্থিত জলীয় বাম্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় সেই তাপমাত্রা হল ওই বায়ুর শিশিরাঙ্ক।

5. ঘনীভবন: জলীয় বাষ্পের ছােটো ছােটো জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে।

6. অধঃক্ষেপণ : বায়ুমণ্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা মাধ্যাকর্ষণের টানে যখন ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে তখন তাকে অধঃক্ষেপণ বলে। 

7. বৃষ্টিপাত : মেঘে উপস্থিত ছােটো ছােটো জলকণা পরস্পর যুক্ত হয়ে বড়াে জলকণায় পরিণত হয় এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। এই ঘটনার নাম বৃষ্টিপাত।

৪. পরিচলন বৃষ্টিপাত : যেসব স্থানে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উষ্ণ ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসে, সেখানে ওই বায়ু পরিচলন পদ্ধতিতে দ্রুত ওপরে ওঠে এবং ওপরে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিরূপে সেখানেই পতিত হয়। একেই বলে পরিচলন বৃষ্টিপাত।

9. আপেক্ষিক আর্দ্রতা : কোনাে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে এবং ওই উষ্ণতায়  ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রয়ােজন—এই দুইয়ের অনুপাত হল আপেক্ষিক আর্দ্রতা।

10. শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত : জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহপথে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বাধা পেয়ে ওপরে উঠে যায় এবং সম্পৃক্ত ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

11. প্রতিবাত ঢাল : শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে পর্বতের যে ঢাল বরাবর জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ওপরের দিকে ওঠে ও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়, সেই ঢালকে প্রতিবাত ঢাল বলা হয়।

12. অনুবাত ঢাল : শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে পর্বতের যে ঢাল বরাবর জলীয় বাষ্পহীন বায়ু নীচের দিকে নামে এবং বৃষ্টিপাত খুবই কম হয় সেই ঢালকে অনুবাত ঢাল বলা হয়।

13. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল :
শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে, প্রতিবাত ঢালের তুলনায় অনুবাত ঢালে বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়। তাই পর্বতের অনুবাত ঢালকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।

14. ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত :
ঘূর্ণবাতের ফলে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত বলে।

15. ঘূর্ণবাতের চোখ : ঘূর্ণবাতের কেন্দ্র যেখানে বায়ুর চাপ সব থেকে কম থাকে, তাকে ঘূর্ণবাতের চোখ বলে। 

16. গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি: 0.5 মিমি এর কম ব্যাসযুক্ত জলকণা বৃষ্টিরূপে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়লে তাকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বলে।

17. স্লিট: জলকণা ও তুষারকণার আংশিক মিশ্রিত রূপ হল স্লিট।

18. শিলাবৃষ্টি: বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সাথে বরফের টুকরাে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়লে, তাকেই শিলাবৃষ্টি বলা হয়।

19. তুষারপাত : শীতপ্রধান দেশে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু হিমাঙ্কের থেকে কম উষ্ণতায় ঘনীভূত হলে জলকণার বদলে সরাসরি বরফ কণায় পরিণত হয় ও মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। এই ঘটনা তুষারপাত নামে পরিচিত। .

20. শিশির: শীতকালের রাতে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত তাপ বিকিরণ করলে ভূপৃষ্ঠসংলগ্ন বায়ু শীতল হয়ে যায়। ফলে ভূপৃষ্ঠসংলগ্ন জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ছােটো ছােটো জলবিন্দু হিসেবে ঘাস ও গাছের পাতার ওপর জমা হয়। এই জলবিন্দুগুলি শিশির নামে পরিচিত।

21. কুয়াশা: জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে সৃষ্ট জলকণা যখন ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ও ধোঁয়ার মতাে বায়ুস্তরের নীচের অংশে ভেসে বেড়ায়, তখন তাকে কুয়াশা বলে। .

22. সমবর্ষণরেখা:
পৃথিবীর যেসব জায়গায় বৃষ্টিপাতের গড় পরিমাণ সমান, সেইসব স্থানকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে যুক্ত করা হয়, সেই রেখাকে সমবর্ষণরেখা বলে।

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি: পূর্ণমান ৫

১. মেঘ কীভাবে সৃষ্টি হয় ? চিত্র-সহ বুঝিয়ে দাও।

উঃ বায়ুর মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ধূলিকণাকে আশ্রয় করে অতি ক্ষুদ্র জলকণা ও তুষারকণারূপে ভেসে বেড়ায়, একে মেঘ বলে। এককথায় বাতাসে ভাসমান জমাটবাঁধা জলকণার সমষ্টিই হল মেঘ। 

আবহবিজ্ঞানীদের মতে কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে মেঘের উৎপত্তি হয়। এই পর্যায়গুলি হল—

1. প্রথম পর্যায় : এই পর্যায়ে সূর্যের উত্তাপে জলভাগের জল বাষ্পীভূত হয়। এ ছাড়া, গাছপালার প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও জলীয় বাষ্প বাতাসে মেশে। জলীয় বাষ্প সাধারণ বাতাসের তুলনায় হালকা হওয়ায় তা সহজেই ওপরের দিকে উঠে প্রসারিত হয়। :

2. দ্বিতীয় পর্যায় : ওপরে উঠে চাপ হ্রাসের ফলে ও শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে জলীয় বাষ্প ক্রমশ শীতল হয়।

3. তৃতীয় পর্যায় : বায়ু যত শীতল হয়, তার জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা তত কমতে থাকে। ধীরে ধীরে ওই আর্দ্র বায়ুর তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নীচে নেমে গেলে বায়ু সম্পৃক্ত হয়। এই সম্পৃক্ত বায়ু আরও শীতল হলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে অতি ক্ষুদ্র জলকণা এবং তুষারকণায় পরিণত হয়। 

4. চতুর্থ পর্যায়: এই পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা এবং তুষারকণাগুলি বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা, ছাই, লবণের কণা, কার্বন কণা প্রভৃতি কঠিন কণিকাকে অবলম্বন করে ভেসে বেড়ায়। এরূপ অসংখ্য ভাসমান জলকণা বা তুষারকণা সম্মিলিতভাবে মেঘ সৃষ্টি করে। সাধারণত বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্নস্তর ট্রপােস্ফিয়ারেই মেঘের সৃষ্টি হয়। এই মেঘের জলকণাগুলির ব্যাস হয় 0.02 মিমি। 

২. বৃষ্টিপাতের প্রক্রিয়াটি লেখাে।

উঃ পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে বায়ুমণ্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা (তরল বা কঠিন অবস্থায়) ভূপৃষ্ঠে নেমে এলে তাকে বলে অধঃক্ষেপণ। এই অধঃক্ষেপণের সবচেয়ে পরিচিত রূপ হল বৃষ্টিপাত।

ঊধ্বর্গামী বায়ু ঘনীভূত হলেই যে সবসময় বৃষ্টিপাত হবে এমন কোনাে কারণ নেই। কয়েকটি নির্দিষ্ট পর্যায় বা পদ্ধতির মধ্য দিয়েই বৃষ্টিপাত প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। যেমন—

প্রথম পর্যায়: সাগর, মহাসাগর, নদী, হ্রদ, পুকুর প্রভৃতি থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। এই জলীয় বাষ্প হালকা হওয়ায় ওপরে উঠে যায়।   

দ্বিতীয় পর্যায়: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু যতই ওপরে ওঠে ততই তার আয়তন বাড়ে এবং চাপ কমে। ঊধ্বাকাশে ওই বায়ু শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে শীতল হয় এবং এর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়। এইভাবে এসে পৌঁছেলে তা সম্পৃক্ত ও ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয় ও বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ভাসতে থাকে। এইভাবে মেঘ সৃষ্টি হয়।

তৃতীয় পর্যায় : মেঘের মধ্যে ভাসমান জলকণাসমূহ ছােটো বড়ো বিভিন্ন আকারের হয়। ভাসমান অবস্থায় বড়াে কণার সঙ্গে ছােটো কণার ধাক্কা লাগলে বড়াে কণা ছােটো কণাকে গ্রাস করে। এর ফলে বড়াে কণাগুলি আরও বড় ও ভারী হয়ে যায় এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিপাত হিসেবে ঝরে পড়তে থাকে। 

 সাইটে সমস্যার জন্য পরবর্তী প্রশ্নোত্তর আপাতত বাতিল করা হয়েছে।  আমরা শীঘ্রই প্রশ্নোত্তরগুলি প্রদান করবো।  


Post a Comment

0 Comments